
এইমাত্র সারাটা দিন শেষে লেখা হলো ৪র্থ পর্ব । এমনিতেই রোজা রেখে ক্লান্ত তার উপর এই পশুকে নিয়ে সারাদিন এই বিস্তর গবেষনা । কথা দিয়েছি বলেই লিখছি তা সম্ভবত না । নিজের ভেতর থেকে একটা তাগিদ সারাদিন বুকে চেপে থাকে । মনে হয় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া আমার মত হাজারো নিরীহ মানুষ হাহাকার করে , দীর্ঘশ্বাস ফেলে । পর্ব লেখার আগে পড়েছিলাম সাকার ছেলে সি এস বি নিউজের প্রাক্তন পরিচালক হুম্মাম কাদের চৌধুরী কোকো ওরফে হুকাচৌএর কথা । পড়েছিলাম তাদের রাত্রি যাপন আর এক রাতে লক্ষ,লক্ষ টাকা উড়িয়ে দেবার কাহিনী । পড়তে পড়তে কখন যে হাতে মুঠো বার বার শক্ত হয়ে যাচ্ছিলো কি এক প্রবল ক্ষোভে আর কষ্টে, তা বোঝাবার নয় । দেশ থেকে শুভাকাংখীরা ফোন করে এই লেখাটি বন্ধ করবার অনুরোধ জানায়, ব্যাক্তিগত মেইলে কত মানুষ প্রতিদিন জানায় বিভিন্ন মতামত আর তাদের ইচ্ছের কথা , বলে শেষ করতে পারবো না । ব্লগে , আড্ডায় আমাকে সতর্ক করে দেয়া হয় আমাকে ভালোবাসে বলেই । ফেইস বুকে অচেনা একজন মেসেজ দেয়, “ ভাই চালাইয়া যান,আছি” । আমি সজোরে “চালাইয়া যাই” । জানি আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে । আহত হতে হতে, ধর্ষিত হতে হতে এখন আর কোন আঘাত আর আঘাত মনে হয় না । জানি, আমার মত কোন ভীতু পাবলিক ঊঠে দাড়াবেই । একদিন গলার রগ-টগ ফুলিয়ে তীব্র হুঙ্কার দিয়ে, আর এই সব পশুদের সরিয়ে দিয়ে বলবেই,
“বাইনচোদ সর । এইবার আমাগো পালা”
আমি সেই আশাতেই বসে থাকি , নিরন্তর ।
***************************************************************************************************
৩য় পর্বের পর—-
রাউজানে নুতন চন্দ্র সিংহ ছাড়াও, আব্দুল মান্নান,পঙ্কজ বড়ুয়া,জাফর আলম চৌধুরী,বিকাশ বড়ুয়া,শামসুল আলম,মুসা খান,শফিকুল আলম,,রুহুল আমিন,সবেদার আবুল কাশেম,সুবেদার বাদশা মিয়া,সুবেদার নূরুল আমিন,সুবেদার আবুল বশর ও এজাহার মিয়া ছিলো সাকা ও ফকার শিকার । ১৯৭১ সালেই পশু সাকা ও ফকার নেতৃত্বে তাদের হত্যা করা হয় ।সাকা চৌধুরীসহ চট্টগ্রামে অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের মামলাগুলোর পুনঃতদন্তের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৮ সালের ১৫ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলে সিআইডির তৎকালীন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদের খান মামলার তদন্তকাজ চালাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে আর অগ্রসর হতে পারেননি। চট্রগ্রাম আদালতের রেকর্ডরুমে এ সংক্রান্ত নথিপত্রের খোঁজ করতে গিয়ে জানা গেছে, এসব মামলার নথিপত্রের আর কোনো হদিস নেই ।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে রাউজান থানাতেই ফকা চৌধুরী ও তার ছেলে সাকা চৌধুরীসহ অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৬টি মামলা হয়েছিল। মামলাগুলোর নম্বর হলো ৪১(১)৭২, ৪(৩)৭২, ৯(৩)৭২, ১৮(৪)৭২, ৪(৪)৭২ ও ৫(৪)৭২। এসব মামলার তদন্ত শেষে ফকা চৌধুরী ও সাকা চৌধুরীসহ অন্যদেরকে আসামি করে চার্জশিটও দেওয়া হয়। কিন্তু,পরবর্তী সময়ে এসব মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে (পিটিশন নং-৩৬৫/৭৩) তা স্থানান্তর করা হয় সাকা চৌধুরীদের পক্ষ থেকে । এরপর থেকে এ সব মামলার আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই একবার মামলা বন্ধ হলে তা আবার চালু করা সে পুরোনো উদ্যমে,বেশ মুশকিল । আমার বাবা একজন আইনজীবি হবার সুবাদে অনেক বার এই চিত্র দেখেই আমাকে বড় হতে হয়েছে । সুতরাং সত্যরঞ্জন সিংহএর মৃত্যূর পর এই মামলা যে মুখ থুবড়ে পড়বে তা আমাদের মত দেশের দৃষ্টিকোন থেকে বলাই বাহুল্য ।সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো, যেখানে বি এন পি আমলেই সাকার’র বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এক ডজনের বেশী ( ২৩-২-৯১, ধারা ১৪৭,১৪৮,১৪৯,৪২৭,৪৩৫ ও ৩০২ দন্ডবিধি, মামলা নং- ৭(৯)৯১ ধারা ১৪৩,৪৩৫,৪২৭, ৩০৭ দন্ডবিধি মামলা নং ২২(০৩-০৩-৯১) ধারা ৩৬৪/৩২৩/১১৪ দন্ডবিধি ) তার উপর প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার চার্জশীট( নম্বর ৬৪, তাং-৮-৬-৯১,চার্জশীট ৫৫(১৯-৫-৯১) চার্জশীট ৮৮ (৩১-৭-৯১) দাখিল করা সত্বেও সাকাকে আইন –আদালত তাকে কিছু করতে পারেনি, সেখানে অনেক আগের মুক্তিযোদ্ধা হত্যার অভিযোগ কি আর ঠাই পাবে ? নূতন বাবুর আরেক ছেলে আর পি সিংহ এই মামলা চালাতে গিয়ে ঘর হারিয়েছেন, সম্ভ্রম হারিয়েছেন,অপমানিত হয়েছেন,সাকার ক্যাডার রাশেদ,খোরশেদ,বখতিয়ার,নিটোল ( পরবর্তীকালে সাকার ক্যাডারদের হাতেই নিহত) জসিমদের হাতে পড়েছেন, ছেলে মেয়ে নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন । কেননা,আমাদের এই দেশে সাকার মত পশুরা , নিজামী,সাঈদী,গো আজম ,মুজাহিদ এদের মত লোকরাই রাজত্ব করবে এইটাই মূল কথা । যাই হোক প্রসঙ্গে ফিরি ।
আমি আগের লেখা গুলোতে আপনাদের একটা ধারনা দেবার চেষ্টা করেছি যে, চট্রগ্রামের রাউজান,গহিরা,রাঙ্গুনিয়া,ফটিকছড়ি এই এলাকাগুলো মূলত ফজলুল কাদেরের ক্ষমতার কেন্দ্র ছিলো তার রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক শক্ত অবস্থানের কারনেই । যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এসে এই পশু পরিবারটিকে প্রথমবারের মত এক তীব্র সংকটে পড়তে হয় । ১৯৭১ সালে সরাসরি বাংলাদেশের বিরোধিতা করে পাকি পুচ্ছ লেহনের কারণবশত খুব স্বাভাবিক ভাবেই সে সময়টা মুক্তিযোদ্ধাদের রোষানলে পড়ে ফজলুল কাদের আর তার চার পূত্র সালাউদ্দিন কাদের জামালুদ্দিন কাদের,সাইফুদ্দিন কাদের এবং গিয়াসুদ্দিন কাদের চৌধুরী । এই প্রসঙ্গে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, ওই সময়ে আমাদের আরেক কথিত “চট্রগ্রাম দরদী” ও “কথিত” মুক্তিযোদ্ধা ও বর্তমানে চট্রগ্রামের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন ( মহিউদ্দিন হচ্ছে সাকার চাচাত ভাই ) এই পশু পরিবারটিকে পেছন থেকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে গেছে তাদের কে বাঁচাবার জন্য । যদিও সাকাচৌ তার চিরাচরিত স্বভাবের কারনে মহিউদ্দিনের পুচ্ছদেশে সময়মত পলেস্তরা খসিয়ে দিয়েছে । “মেয়র হজ্জ্ব কাফেলা”খ্যাত দূর্নীতিবাজ এই মেয়র যখন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দেয় , তখন স্বভাবতই অবাক হতে হয় তার এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড দেখে । অবশ্য অবাক হবার কিছুই নেই যেখানে তার ছেলে মহিবুল হাসান নওফেল আমাকে গত ১৭ই মে একজন মুক্তিযোদ্ধার ক্যাম্পেইনের মিটিং শেষ করে টিউবে করে ফিরবার সময় বেশ গর্ব করে বলে,
“আমার বাবা দূর্নীতি করে না, কিন্তু তিনি অনেক কেই ধনী বানিয়ে দিয়েছে । এস আলম কে ৭০০ কোটি টাকা লোন স্যঙ্কশন করিয়ে দিয়েছে আমার বাবা” । সে সময় আর কি বলার থাকতে পারে ?
এরপর যার কথা আসে, তার কথা শুনে মনে হবে মহিউদ্দিন আবার কোন ছার ! আর কেউ নন , তিনি হচ্ছেন আমাদের জাতির জনক বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । ১৯৪৭ এর আগের সেই কলকাতা ভিত্তিক বন্ধুত্ব শেখ মুজিব ঝেরে ফেলতে পারেন নি । অভিবক্ত পাকিস্তান আমল থেকেই ফজলুল কাদেরের সাথে বংগবন্ধুর একটি অন্তরঙ পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো । মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হবার সুবাদে রাজনৈতিক ভাবেই শেখ মুজিবের সাথে ফকা আর তার পরিবারের একটি অতি ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে । আর একই বয়সী শেখ কামালের সাথে সাকার বেশ ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো । এখানে একটি তথ্য দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি যে, আমাদের এখনকার ডিজিটাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পশু সালাউদ্দিন কাদেরের বিয়ের কথাবার্তা অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছিলো (মুক্তিযুদ্ধের আগে বংগবন্ধু সম্ভবত পশু চিনতে ভুল করেছিলেন ) এবং সেটা বংবন্ধুর আগ্রহেই ।
যা পরবর্তীতে সাকা চৌ সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্বীকার করে তার পশুর মত ঠোট দুইটি নাড়িয়ে ব্যাংগ করে বলেছিলো,
“ হাসিনা তো আমাকে নিয়ে বলবেই । কেননা উনি আবার আমার প্রতি একটু দু”ব্ব”ল…আমাদের বিয়ে হবার কথা ছিলো কি না… ওয়াযেদ মিয়ার সাথে উনার বাসর রাতের শাড়ি আমারই কিনে দেয়া”
পরবর্তীতে অবশ্য এই উক্তির বিরুদ্ধে কোন আইনআনুগ ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি ,(কিন্তু আমরা সাধারণ পাবলিক যদি এই কথা বলতাম, তাহলে আমাদের চৌদ্দগুশটি হয়তবা উদ্ধার হয়ে যেত) মানহানির মামলা করা হয়নি যা থেকে মৌনতাই সম্মতির লক্ষন বলে আমরা সাধারণ জনগণ বুঝে নিতে পারি ।
১৯৭১ সালের ১৮ ই ডিসেম্বর যখন ফকা জাঙ্গিয়া পরা অবস্থায় ধরা পড়ল সে সময় বংগবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী । সুতরাং তিনি এসে ফকাকে বাঁচাবেন কিংবা তার পরিবারকে একটা “অবস্থানে” পৌছাবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হবার কোন সুযোগ ছিলো না । বরং ১৯৭২ সালের ১০শে জানুয়ারীতে বংগবন্ধু যখন দেশে আসলেন তার আঠারো দিন পরেই সত্যরঞ্জন ( নুতন বাবুর ছেলে) ফকা ও সাকা সহ আরো ৫ জনের নামে মামলা করেন । কাগজ পত্র ঘাটতে গিয়ে ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পড়তে গিয়ে আমি কয়েকটা তারিখ নিয়ে বেশ দোটানায় পরেছিলাম । কেমন যেন মিলানো যাচ্ছিলো না । একটা তথ্য দেয়া হয়নি যে, সাকা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার কিছুদিন আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে প্রায় ধরা পরে গিয়েছিলো , রাঙ্গুনিয়ার এক বাসায় । পরে তার পায়ে গুলি লাগে এবং সে কোন ভাবে বেঁচে যায় । তার কিছুদিন পরে ফকার ধরা খাওয়া আর তার সব ভাইদের পালিয়ে বেড়ানো, এসব কিছু মিলে সাকার গুডস হিলের বাড়ীটা একটি ভূতুড়ে বাড়ীতে পরিণত হয় । সাকা ১৯৭২ সালের মার্চের দিকে পাকিস্তানে যায় এবং সেখান থেকে লন্ডনে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আত্মগোপন করে থাকে ।এইদিকে সাকা পাকিস্তানে পাড়ি দেবার আগ পর্যন্ত গোপনে শেখ কামালের মাধ্যমে অনেক তদবির করতে থাকে তাদের কে প্রাণে বাঁচাবার জন্য , কিন্তু যতদূর জানা যায় বেগম মুজিব সাকাকে সাহায্য করতে কামাল কে নিষেধ করেন ।
আমরা এই বিষয়ে আরেকটি ইঙ্গিত পাই শেখ হাসিনার ১৯৯৮ সালের ৯ ই জুলাই বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যের মাধ্যমে । ‘এখন তিনি টাকার গরম দেখান, ’৭১ সালে সাহায্যের কথা বলেন, এই টাকা কোথা থেকে এসেছে? সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুট করে, সামরিক জান্তার পা চেটে এই টাকা এসেছে । তার বাবা বেঁচে থাকলে তার পেটে হাত দিলে ৩২ নম্বরের ভাত পাওয়া যেত । ’৭১ সালের পর জীবন ভিক্ষার জন্য তার চোখের পানিতে ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি ভিজেছে । তার মুখে বড় কথা শোভা পায় না।’
এখন আমার মূর্খ মনে একটি নির্দোষ প্রশ্ন জাগে । তা হলো, প্রধানমন্ত্রী ৭১ সালে কোন সাহায্যের কথা বলছেন? তবে কি সাকা পরিবার, শেখ পরিবারকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করেছিলেন ? ঠিক বুঝতে পারছি না । যাই হোক, এসব রেখে আমাদের আলোচ্য সাকা পশুতেই বরং ফিরে আসি ।
১৯৭২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাকা লন্ডনে এজওয়্যার রোডের একটি বাড়িতে গিয়ে ওঠে তার আরেক আত্মীয়ের সাথে । পরবর্তীতে ওয়েস্ট লন্ডনের বেলসিজ পার্কে নিজস্ব ফ্ল্যাটে উঠে । এখানেই সাকা নিজেকে ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে তার পাকিস্তানী লিঙ্ক আর আওয়ামীলীগ বিরোধী নেটোওয়ার্ক গুলোর মাধ্যমে । আগেই বলেছি সাকা পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যায় ১৯৬৮ সালে । ফকার রাজনৈতিক শক্ত পরিচয় (১৯৬২ সালে ১৪ই জুলাই এ মন্ত্রীত্ব গ্রহন ও ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত কনভেনশন মুস্লীম লীগের স্পীকার) , আইয়ূব খানের সাথে হট লিঙ্ক,আর পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ভালো সম্পর্কের জের ধরেই সাকা, পাকিস্তানে ফকার হয়ে সে সম্পর্ক গুলো বজায় রাখে । এইসব কারনেই সেই ষাট দশক থেকেই সাকার পরিবারের সাথে পাকিস্তানের উঁচু রাজনৈতিক পরিবারের যোগসূত্র যা বর্তমানের কিছু ঘটনা দিয়ে আমরা অতি সহজেই বুঝে নিতে পারি যখন সাকার ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরীর (হুকাচৌ)ও মেয়ে ফাইজা কাদের চৌধুরীর বিয়েতে পাকিস্তানের বড় সড় মন্ত্রীদের আগমন হয়,কিংবা কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করলে অথবা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বেঞ্জীর ভুট্টোর স্বামী আসিফ আলী জারদারী প্রথমবারের মত কোনো বাংলাদেশী রাজনীতিবিদকে ফুলের শুভেচ্ছা পাঠায় পাকিস্তানী হাইকমিশনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে ।
আসিফ আলী জারদারী ছাড়াও ১৯৭৭-১৯৭৮ সালে কুখ্যাত আন্তর্জাতিক চোরাচালানি আব্বাস মাস্তানের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে । উল্লেখ্য যে, ১৯৭৬-৭৭ সালে সাকা জ়িয়া এয়ারপোর্টে ব্রোকার হিসেবে তার নেটওয়ার্ক পরিচালিত করত । এর পর দুবাইতে, আরেক চোরাচালানী ও ধন কুবের আব্বাস মাস্তানের সহযোগিতায় সে চোরাচালানীর ঈশ্বর এবং সন্ত্রাসের আরেক নাম দাউদ ইব্রাহীমের সাথে পরিচিত হয় । করাচীর আরেক চোরাচালানী, ইমতিয়াজ খোয়াদ্দাদের সাথেও সাকার ব্যাবসায়িক সম্পর্ক আছে বলে ২০০৭ সালে তত্বাবাধায়ক সরকারের আমলে গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ করা হয় ।
১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তন সাকার পুরো রাজনৈতিক জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট । এ সময় ,বংগবন্ধুর স্বঘোষিত খুনী রশীদ এবং ফারুকের সাথে (পরবর্তীতে ফ্রীডম পার্টির হর্তা কর্তা) সাকার যোগসাজস হয় । খন্দকার মোশ্তাকের সাথে ফকা চৌধুরীর খুব ভালো সম্পর্কের জের ধরে সাকা শুরু করে তার নতুন রাজনৈতিক জীবন । সে সময় দেশে ফিরে এসে আরেক রাজাকার সবুর খানের (যার কবর এখন আসাদ গেট আড়ং এর উলটা দিকে বাঁধানো অবস্থায় দেখা যায় ) মুসলিম লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। কিন্তু সাকা চৌধুরী বুঝেছিল আলোচনায় আসতে হলে বিরোধিতার ভূমিকায় আসতে হবে। সে কারণে সে জাতীয় সংসদে সে সময়ের তরুণ ত্রয়ী রাশেদ খান মেনন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও শাজাহান সিরাজের সঙ্গে একতালে চলতে শুরু করে। ফলে দলনেতা সবুর খানের বিরোধিতার মুখে পড়তে হলে সে অপর মুসলিম লীগ সংসদ সদস্য ইব্রাহিম খলিলকে নিয়ে মুসলিম লীগের আলাদা গ্রুপ গঠন করে । সংবিধানে তখনও দলত্যাগ করলে আসন শূন্য হওয়ার বিধান থাকলেও সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধি না থাকায় সে তা থেকে পরিত্রাণ পায় । আবার যখন এরশাদ সামরিক শাসন জারি করেন, সাকা চৌধুরী তখন তার সঙ্গে ভিড়ে মন্ত্রিসভাতেই জায়গা করে নেয় (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী এবং পূর্ত মন্ত্রী ।)
জানা যায়, এ সময় সাকা চৌধুরী ও সালমান এফ রহমান জুটি এরশাদের সঙ্গে মিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিপুল বিত্তবৈভব সঞ্চয় করে ।( পরবর্তীতে এই সাল্মান এফ রহমানই সাকার বিরুদ্ধে মামলা করে, গিকার পক্ষ নিয়ে , এই বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে ) কিন্তু কূট রাজনীতিতে সিদ্ধ সাকা চৌধুরী এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ক্রোধের বিস্তার দেখে আরেক রাজনৈতিক ফেরেপবাজ সাংবাদিক আনোয়ার জাহিদকে নিয়ে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করে এনডিএ গঠন করে ।এই আনোয়ার জাহিদই পরিচিত ছিলো প্রবল ভাবে পাকি পা চাটা সাংবাদিক হিসেবে । যার স্বরণ সভাতেই ১৯৭৫ সালে বংগবন্ধুকে স্বপরিবার সহ নির্মম হত্যাজজ্ঞকে সঠিক ও সময়াপোযোগী ছিলো বলে মন্তব্য করে । ১৯৯০ এর শেষ দিকে ঐ এনডিএ-ই পরে এনডিপিতে রূপ নেয় এবং সাকা চৌধুরীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করে ।
১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের পর সাকা চৌধুরী আবার রাজনীতির ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে ওঠে । শেখ হাসিনার সঙ্গে পারিবারিক অতীত সখ্যতার সুযোগ নিয়ে সাকা চৌধুরী বিরোধী দলনেত্রীর অন্যতম উপদেষ্টায় পরিণত হয়। জানা যায়, আওয়ামী লীগ দলের মধ্যে বিশাল আপত্তি থাকলেও সাকা চৌধুরী দলের অন্যদের সঙ্গে মিলে শেখ হাসিনাকে সংসদ বর্জন ও পদত্যাগে প্ররোচিত করে । লক্ষ্য ছিল দেশে আরেকটি সামরিক শাসন আনা । সেটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি । তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গণআন্দোলনই সরকার পরিবর্তনের পরিণতি লাভ করে । এবার কিন্তু সাকা চৌধুরী এতদিন হাসিনার সঙ্গে মিলে যে বিএনপির বিরোধিতা করেছে সেই বিএনপিতেই ভিড়ে যায় এবং অচিরেই সেই দলের দক্ষিণপন্থীদের সংগঠিত করে নিজের অবস্থান দৃঢ় করে ।
একটা ব্যাপার এখানে লক্ষ্যনীয় যে, ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনা কি করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে রাজাকার,লুটেরা বলে সমালোচনা করেন, যেখানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার উপদেষ্টা মন্ডলীর একজন সদস্য ছিলো ? শেখ হাসিনার এই ধরনের নিম্ন মন মানসিকতা,ক্ষমতায় যাবার প্রবল আকাঙ্খা আর ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আমাকে প্রায়ই হতবাক করে তোলে । এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের উদাহরণ আওয়ামীলীগ এর আগেও দেখিয়েছে জামাতকে তাদের আন্দোলনের সংগী করে, খেলাফত মজলিশের সাথে নির্বাচনী মোর্চা করে । সে তুলনায় আমি খালেদা কে আসলে অনেক উপরে রাখি । কারন এই মহিলা জানে তার লজ্জা ও শরম কিছু নেই এবং সে তা মানুষ কে বুঝিয়ে দিতে কার্পণ্য করে না । সালাউদ্দিন যখন ২০০১ ইলেকশনের আগে বলে,
“এতোদিন জানতাম কুত্তা লেজ নাড়ায়, এখন তো দেখি লেজ কুত্তাদের নাড়ায়”।
খালেদা জিয়া কে ভাব বাচ্যে কুত্তা বল্লেও আপোষহীন নেত্রী রাগ করেন নি । পরম মমতায় তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন আমাদের “শা”লা উদ্দিন কাদেরকে । আর সেই কুত্তার দুই বাচ্চা দুনিয়ার সব মানুষ্কে মারল,ধরল আর নির্যাতনের পর নির্যাতন করে ১১ হাজার কোটি টাকা নিয়ে দুই ভাই কোমরে ব্যাথা নিয়ে দেশ ছেড়ে ভাগলো । শুধু সাকাকে কিছু করল না । সাকাই বরং তাদের দুই জনকে উদ্দেশ্য করে বলল।
“ আমি কি পুতের রাজনীতি করি নাকি , যে তাদের মুক্তি চাইতে হবে ?”
দেখে শুধু বিষ্মিত আর অবাক হই ।
আসলে সাকাকে দোষ দিয়ে কি হবে ? কেনই বা সাকা কে দোষ দিব ? এই কুকুর ডাকার ফলশ্রুতিতে সাকা হলো বিরোধী দলীয় সংসদ উপনেতা । আর দল থেকে ও আই সি’র লিডার হবার মনোনয়নও পেল । আপনি একজন বাংলাদেশী হয়ে শুধু বাল ছিড়বেন আর বসে বসে তা দিয়ে আঁটি বাধবেন । খুব বেশী খারাপ লাগলে মাথায় ঠান্ডা পানি দিয়ে বসে থাকবেন । কিন্তু টুঁ শব্দটি করবেন না । এইটা আমার , আপ্নার,আমাদের কৃতকর্মের ফসল । ভোট দেওয়ার সময় ভাবি নাই কেন সাকার মত রাজাকার সংসদে যাবে ? ভোট দেওয়ার সময় ভাবি নাই কেন যে, ভোট যখন আমরাই দিয়েছি তখন দেখেই দিচ্ছি কি না, ভোট দেয়ার সময় আমাদের রাজাকার রাজাকার এইসব হুংকার কই থাকে ? কেন দেশ জুড়ে রাজাকার মারা “এ টিম” তৈরী হয় না ? কেন সংসদে গেলেই চিতকার করি ? ও সাকা…ও সাকা বলে ? শুধু ভোটের পরেই আমার মত বাল পাবলিকদের যত আস্ফালন ।
ইয়েস!!! সাকাই এই কথা বলবার যোগ্য দাবিদার-
‘মানুষ আমাকে ৩০ বছর ধরে সংসদে পাঠিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে আজ আমাকে আবার যোগ্যতা প্রমাণ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।“
আসলেই তো !! আপ্নারা ভোট দিয়ে দিগদারি করবেন আর , পশু সাকা কথা বলতে পারবে না ?? হাস্যকর!!
মাঝে মাঝে আমার চট্রগ্রামের মানুষদের প্রতি, রাঙ্গুনিয়ার মানুষদের প্রতি,রাউজানের মানুষদের প্রতি,ফটিকছড়ির মানুষদের প্রতি ঘৃণায় চোখ-মুখ কুঁচকে আসে । এই অঞ্চলে সাকার মত পশু,একটা অমানুষ কি করে ৪৯,০০০ হাজার,৬৫০০০ ভোট পায় ? একটা মানুষ কি নেই যার বুক আছে, একটা মানুষ কি নেই যার মুখ আছে যে চিতকার করে বলতে পারে, “রাজাকার মুক্ত, সাকা মুক্ত চট্রগ্রাম চাই ?” আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা , মেয়র মহিউদ্দিন বলে উনি মুক্তিযোদ্ধা । কিসের মুক্তিযোদ্ধা তারা ? তারা কি ঘরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলো? তারা কিভাবে এই নরপশুটাকে এভাবে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে ? কেন আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রতিবাদ করেন না যে সাকা বি এন পি তে থাকলে তিনি থাকবেন না ? কেন খোকা প্রতিবাদ করেন না ? কেন মান্নান ভুইয়া বি এন পি’তে থাকা অবস্থায় প্রতিবাদ করেন নি ? তিনি না এককালের মারক্সিস্ট ? তিনি না একসময় বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন মতিয়া,মুকুল বিশ্বাসদের নিয়ে ? কই তারা ? কোথায় তাদের বুক আর পাঁজর ?? কোথায় ??
নাহ্, আজ সম্ভবত আমি বড্ড বাজে বকে ফেলছি । কি করে তারা তা বলবেন ? একাত্তরের ওই বুক কি আর ৩৮ বছর পরেও থাকে ? সেই তেজ কি আর থাকে ক্ষমতার দেখা পেলে ? সুতরাং, বাদ দেই সে সব ।
এবারও সাকার কৌশল ছিল বিএনপিকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করানো । দলের দক্ষিণপন্থীদের জড়ো করে সেই খেলা সাঙ্গও করে ফেলেছিল। কিন্তু দলের ‘নরমপন্থীরা’ বেঁকে বসায় সেটা আর হয়নি। দল থেকে কিছুটা বিচ্ছন্ন হয়ে সাকা চৌধুরী এবার বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেই নেমে পড়ে । চট্টগ্রামের আবদুল্লাহ আল নোমান, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আগে থেকেই তার চোখের বিষ ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই আক্রমণে নামে সাকা চৌধুরী । বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতের কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়। কিন্তু নির্বাচনের সময় বিএনপির পাঁচটি আসনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিলে বিএনপি আবার তাকে দলে ফিরিয়ে আনে ।
সাকা বার বার আসন পরিবর্তন করে আর সব সময়ই নতুন আসন থেকে নির্বাচিত হয় । ৯১ এন ডি পি’র হয়ে দাড়িয়েছিল রাউজান থেকে,এবং পরাজিত করেছিলো আওয়ামিলীগের আব্দুল্লাহ আল হারুন (বি এন পির আরেক প্রভাবশালী মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের ভাই)। ১৯৯১ সালের ২৫শে এপ্রিল এই হারুনই সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী এবং তার দুষ্কর্মের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী ছিল মামলাটির সাতজন বিবাদীর মধ্যে সর্বপ্রথম । সালাউদ্দীনের দুষ্কর্ম উল্লেখ করে আবদুল্লাহ্ আল হারুন বলেন, “সর্বপ্রথম বিবাদী, বলপ্রয়োগ করা, নির্মমতা এবং সন্ত্রাসে বিশ্বাসী । সে কখনো আইনের তোয়াক্কা করেনা । নির্বাচনের আইন-কানুনের প্রতি তার কখনো শ্রদ্ধা ছিলনা। জনগণের অধিকারেও সে বিশ্বাস করতোনা । ১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানী শক্তিকে সমর্থনের সময় প্রথম বিবাদী স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে অমার্জনীয় এবং জঘন্য ভূমিকা পালন করেছিল। বহু লুটপাট ও হত্যাকান্ডের সাথে সে জড়িত ছিল । ১৯৭২ সালের ১৩ই এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় তার বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা করা হয়,মামলার ক্রমিক নাম্বার ছিল ১৭ ।” পরবর্তীতে এই মামলার কি অবস্থা হয়েছিলো তা জানা যায় নি ।
সাকা ১৯৯৬ তে যখন দেখল অবস্থা ভাল না, ছোট ভাইয়ের হাতে রাউজান ছেড়ে দিয়ে দাড়ালো পার্শ্ববর্তী রাংগুনিয়ায়। সে বছর গিকা পাশ করলেও ২০০১ এ গিকা ফেল করল চট্রগ্রাম মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিনের ভাই, এ বি এম ফজলে করিমের কাছে । মহা ধুরন্ধর সাকা এইবার (২০০৮) দেখল রাউজান-রাংগুনিয়া কোথাও পাশ করা যাবেনা, দাড়ালো গিয়ে ফটিকছড়ি । ফলাফল হলো সাকা পশুটি আবারও পাশ করছে । কিন্তু রাউজান-রাংগুনিয়া দুই জায়গাতেই নৌকা জয় লাভ করেছে । এইসব হলো সাকার হিসাবজনিত রাজনীতি । সাকা রাজনীতির মাঠে একজন পাকা খেলোয়ার । সে যানে কখন কোন আসন থেকে তাকে দাড়াতে হবে । এই বছর বি এনপির ভরাডুবিতে সবচাইতে লাভবান হয়েছে মূলত সাকা চৌধুরী । অন্য সব হাই ডিনামাইট নেতারা ফেল করাতে এবং বিএনপি কয়েকশ খন্ডে বিভক্ত হয়ে যাওয়াতে খালেদা জিয়ার উপর তার এখন একচ্ছত্র আধিপত্য, এ কথা বলাই যায় । তাইতো মওদুদ এখন বিরোধী দলীয় উপনেতা হওয়াতে । তাকে সে সুবিধাবাদী,পোল্টিবাজ অভিহিত করে , দম্ভোক্তি করে বলতে পারে এই বলে যে,
‘এই লোকটির রাজনৈতিক জীবন সুবিধাবাদের ইতিহাসে ভরা। আওয়ামী লীগের আমলে তিনি পোস্ট মাষ্টার জেনারেল ছিলেন। তারপর শহীদ জিয়ার মন্ত্রীসভায় মন্ত্রী। এরশাদের সময় মন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি কতকিছু । এরশাদের পতনের পর হাওয়া দেখে আবার বিএনপিতে ফিরে আইনমন্ত্রী । এখন আবার সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা হতে সেকি তোড়জোর । তিনি বলেন, জাকাতের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এরা এ সমস্ত কর্মকান্ড করে কিভাবে তাই প্রশ্ন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়ার উপনির্বাচনে আমাদের দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে চেয়ারপার্সন নির্বাচন করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি করেননি। তিনি বলেছেন, আমার নিজের এলাকার ভোটাররা আমাকে ভোট দেয়নি। আমার উচিত হবে না বহিরাগত হিসেবে অন্য কোনখানে নির্বাাচন করা। কিন্তু আমার বন্ধু মওদুদ কিন্তু করেছেন। তারতো উচিত ছিল নির্বাচনে ভোটাররা তাকে পরাজিত করার পর স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করা। দল যদি তার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতো তাহলে তাকে আবার সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনতো। এতে দলেও একটি শুদ্ধ গণতান্ত্রিক রীতি প্রতিষ্ঠা পেত।”
সরকারের সঙ্গে মওদুদ আহমেদের সম্পর্কের বিষয়ে সাকা বলে,
“বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ম্যাডাম জিয়ার দুদকের মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, কিন্তু ব্যারিস্টার মওদুদের মামলা কিন্তু প্রত্যাহার হয়েছে। বর্তমান আইনমন্ত্রীর কথাকে সমর্থন করে চৌধুরী বলেন, তার বক্তব্য ঠিক। ওনি তো পূর্ব থেকেই সুবিধাভোগী। বেনিফিসিয়ারী।গত ৩০ বছর সংসদের আসনে বসে নিজকে ধন্য করিনি বরং যে আসনে বসেছি সে আসনটি ধন্য হয়েছে”
অথচ দেখেন, আপনারা যদি উপরে ভালো করে পড়ে থাকেন তাহলে দেখবেন, সাকা পশুটি নিজেই প্রথমে কনভেনশন মুসলিম লীগ,পরে আবার সবুর খানের মুস্লিম লীগ,পরে এন ডি পি,এর পর জাতীয় পার্টিতে মন্ত্রী,তারপর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য,এর পর বি এন পি । এবার বিচারের ভার আপনাদের হাতেই ছেড়ে দিলাম যে , দাদী শাশুরী কাকে নানী শাশুরী বলে, আর কেনই বা বলে ?
বি এন পি’র সব বড় নেতা নির্বাচনে পরাজিত হবার সুযোগেই সাকা বলতে পারে,
“বিএনপি একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক দল । এখানে নানা মতের নানা আদর্শের লোকজনের সমাবেশ ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বিএনপির কোন ক্ষতি নেই । কারণ বিএনপি সকল জাতীয়তাবাদী শক্তির একটি সম্মিলিত প্লাটফরম । মহাসমুদ্র । সমুদ্রে যেমন নদীর পানিও মিশে, আবার নালা-নর্দমার ময়লা-নোংরা পানিও মিশে- এতে সমুদ্রের কিছু যায় আসে না । তেমনি বিএনপিতে সত্যিকার জাতীয়তাবাদী, মান্নান ভূইয়াদের মত বামপন্থী, কমিউনিস্ট- সকল ঘরানার আশ্রয় মিলেছে। সবাই ইমাম হিসেবে বিএনপিকেই মানে”
সংস্কারপন্থীদের বিএনপিতে পুনরায় আশ্রয় দেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে সাকা চৌধুরী বলে,
“ওরা যাবে কোথায়? ওদের ফিরে আসার সুযোগ দেয়ার কথা ম্যাডামের ভেবে দেখা দরকার। দলে ফিরিয়ে কাজ করতে দেয়া উচিত। মান্নান ভুইয়াদের দলে ফিরতে অনেকেই বাঁধা সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুর্বল চিত্তের লোকরা মনে করে ওমুক দলে ফিরলে আমার কর্তত্ব ফুরিয়ে যাবে। আমার এতে কোন অসুবিধা নেই। অসুবিধা তাদেরই যারা জনগণের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না। বাপের কিছু নেই তাই দুই নম্বরী করে কামিয়ে আখের গুছাতে এরা রাজনীতিতে এসেছে। ওয়ান ইলেভেনের পর অনেকের সম্পর্কে জানা গেছে, ঢাকা শহরে তার ৫৮ টি ফ্ল্যাট বাড়ি আছে। গাড়ী আছে অনেকের কুড়ি, বাইশটি। কিন্তু একজন মানুষ কয়টি বাড়িতে থাকে? কয়টি গাড়ীতে চড়ে বেড়ায়? কিন্তু দলে ফিরতে দিলেও যেমন মান্নান ভূইয়াকে মহাসচিব করা যাবে না, তেমন তাদের এটা আশা করাও ঠিক হবে না”
নির্বাচন কমিশন, মনোনয়ন পত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করতে বলেছে, এই ক্ষেত্রে আবারো খালেদা জিয়াকে ভাববাচ্যে ধূর্ত সাকা অপমান করে এই বলে যে,
“ এটি নিইর্বাচন কমিশনের অত্যন্ত হীন একটি কাজ হয়েছে । এই কাজটি করবার একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে ম্যাডাম কে অপমান করা”
লক্ষ্য করে দেখেন কি করে, অতি চালাক পশু সাকা একরকম বলেই দিলো যে খালেদা জিয়া অশিক্ষিত ।
আওয়ামীলীগকে জামায়াতের চেয়েও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলে,
‘৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর শত্রু সম্পত্তি আইন করা হয়। এটাই স্বাধীনতার পর আওয়ামীলীগ করে অর্পিত সম্পত্তি আইন। তাদের নেতা ফনী ভূষন মজুমদার, শুধাংশু শেখর হালদার, মনোরঞ্জন ধর প্রমুখের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু আওয়ামীলীগ কি সেই আইন আজ পর্যন্ত বাতিল করেছে? করেনি। কারণ হিন্দুদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তির শতকরা ৯৯ শতাংশই ওরা দখল করে খাচ্ছে। এ কারণে তারা তাদের কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছে, এরা সাম্প্রদায়িক একটি দল।ওয়ান ইলেভেনের স্রষ্টা কাকা-দাদাবাবুদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এমন মন্তব্য করে বলেন, আব্দুল জলিলের ব্যর্থতা তিনি কাকাদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেননি। এজন্য তাকে ঝরে পড়তে হলো ”
শেখ হাসিনা যখন সাকা কে সোনা চোরাচালানী বলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঠিক তার জবাবে সাকা বলার সাহস পায়,
“ শেখ হাসিনা আমার সোনা নিয়া টানা টানি করে ক্যান ? ওয়াজেদ মিয়ার কি সোনা নাই ?”
আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে চিতকার করে,গম গম করে বলতে পারে, “ইয়েস । আমি রাজাকার ছিলাম, এখন কে কোন বাল ছিড়বে ?”
নির্বাচন কমিশনকে বলতে পারে, “ওদের কাছে কি জবাব্দিহি করব ? ওদের কে তো চাকরি দিয়েছি আমরাই । ওরা আমাদেরকে জি স্যার , জি স্যার করত । এদের কথার আবার কিসের জবাব ?”
মইন ইউ সম্পর্কেও সাকা বলে,
“এরকম আরও অনেক গাদ্দারকে বিএনপি প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। উচ্চ পদে বসিয়েছে। রুটি রুজির ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু তারা কি করেছে? করেছে চরম গাদ্দারী। মোনাফেকি। আসলে এটাই হওয়ার কথা। আল্লাহর কথা বাদ দিলাম, প্রকৃতির প্রতিশোধ বলতে একটা কথা আছে না। অন্যের প্রতি ইনজাস্টিস করলে তার কাফফারা অবশ্যই দিতে হয় ।”
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সম্পর্কে তার দেয়া বক্তব্যের পর আইন প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সাকা চৌধুরী বলে,
“বট তলার মানুষরা কে কোথায় কি বলল, তার জবাব আমি দিতে প্রস্তুত নই। ব্যাঙ্গ করে তিনি বলেন, বর্ষাকালে কত রকমের ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। তাই বলে সব ডাকের কি জবাব দেয়া যায়। কোলা ব্যঙরা ডাকবেই তাতে হাতির কিছু আসে যায় না । এসব ডাক উপেক্ষা করেই হাতি সামনে এগিয়ে যাবে”
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতার জন্য আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে দায়ি করে সাকা চৌধুরী বলেন ,”এ আইনের নাম হওয়া উচিত ছিলো, মালেকুল মউত আইন”
তাকে যুদ্ধপরাধী বলা হয় সাংবাদিকদের,এই প্রশ্নে পশুটি আবারো কৌতুক করে বলে,
“ আমার পিতা অখন্ড পাকিস্তানে বিশ্বাস করতেন। তিনি পাকিস্তান মুসলীম লীগের সভাপতি ছিলেন। ভারতের সঙ্গে টিকে থাকতে একটি শক্তিশালী ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান তিনি চেয়েছেন। এটা তার রাজনৈতিক বিশ্বাস ছিল। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ, রাহাজানি, অগ্নিসংযোগ প্রভৃতি কাজগুলো আমার পিতা কি করেছেন? যদি তিনি এই ঘৃণ্য কাজগুলো করে থাকেন তাহলে জেলখানায় মৃত্যুর পর কেন তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল। কেন তার কবর রক্ষীবাহিনী দিয়ে দীর্ঘ দিন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাদের আশংকা ছিল, আমরা পিতার লাশের পরীক্ষার করে তাকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারি ।সাকা আরো বলে , সাম্প্রদায়িক ভারতকে ঠেকাতে লাহোর প্রস্তাবের আলোকে দ্বি-জাতি তত্ত্বে পাকিস্তান হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশে কি হচ্ছে? ওপার থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা চালান করে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামীলীগ দেশে ধর্ম নিরপেক্ষতা চালুর কথা জোর দিয়ে বলছে। তাহলে সীমান্ত রেখে কি লাভ। ওটা উঠিয়ে দিক। আমরা সরাসরি দাদাদের নমস্কার করে আসতে পারবো। ওদের লোকসভায় নির্বাচন করতে পারবো। দিল্লি লোকসভায় অংশ নিতে পারবো। এটাইতো মজার বিষয়। তিনি বলেন, আমি দেশের জনগণের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম আজ তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি হিসেবে থাকবে, না তথাকথিত সুশীলদের আমদানীকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হিসেবে টিকে থাকবে। উত্তরাধিকার সূত্রে আমার সন্তানদের যাতে আর যুদ্ধাপরাধের দায় বহন করতে না হয় সেজন্য যে কোন স্বাধীনতার ডাক শুনার আগেভাগেই আমি তাতে সর্মথন দেই । আমার মরহুম বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন বলে তার ছেলে হিসেবে আমাকে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । আর এ কারণে আমার ছেলেরা যাতে এ রকম পরিস্থিতি শিকার না হয়, সেজন্য আমি এখন যে কোনো স্বাধীনতা-আন্দোলনে আগে-ভাগেই সমর্থন দিতে চাই, যাতে আমার জন্য আমার ছেলেকে কেউ স্বাধীনতাবিরোধী না বলে।”
একটি দেশ,দেশের প্রশাসন,দেশের প্রধানমন্ত্রী,আইনমন্ত্রী,বিরোধীদলীয় নেত্রী,সমাজ,দেশের ইতিহাস,রাজনীতিবিদ সবাইকে অতি তুচ্ছ এক পল্কায় প্রতিটিদিন সাকা চৌধুরী হাওয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছে । কেউ নেই কিছু বলবার । সবাই চুপ করে থাকেন কি এক অদ্ভুত মৌনতায় । আসলেই কি বলা যায় ? আমাদের কি আছে সাকার মত হাজার হাজার কোটি টাকা ? আমাদের কি আছে সি আই এর হট কানেকশন ? আমাদের পাশে কি আছে দাউদ ইব্রাহীম ? আমাদের পাশে কি আছে একটি গুন্ডা বাহিনী ? আমাদের কি আছে রাজনৈতিক বাবা আর দাদা ? আমাদের কি আছে নিচের এই সাম্রাজ্য গুলো ?
QC Shipping Limited
Multiport Limited
QC Container Line Limited
Intermodal Transport
QC Petroleum Limited
Dacca Dyeing & Manufacturing Company Ltd.
QC Enterprises Limited
QC Trading Limited
QC Feeders Ltd
QC Textile Limited
QC Farms Limited
QC Foundation
Feedermax ( S ) Pte Ltd
চলবে…