
লেখাটা লিখতে গিয়ে টের পেলাম অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে । অনেক বড় মানে, বেশ বড় । এই পশুকে নিয়ে এত বড় লেখা পাঠকরা কেন, লেখক হিসেবে আমি নিজেই হজম করতে পারছিলাম না । সুতরাং জীবনে এই প্রথম বারের মত পর্ব হিসেবে লেখা দিতে হচ্ছে । আশা করি আপনারা এই নরপিশাচের কথা জেনে শিউরে উঠবেন । ঘৃণায় আর লজ্জায় মুখ লুকাবেন । কেননা সাকা’র মত পশু আজ নিজেকে মানুষ দাবী করে সমাজে দাবড়িয়ে বেড়ায় । সে কারনেই সম্ভবত আমার মত সাধারণ পাবলিকের আর নিরীহ হয়ে থাকা গেলো না । সাকার মত একটু হিংস্র হতেই হলো ।
আপনাদের সাকা পাঠ ঘৃনার হোক । এই কামনা ।
********
শুরুর ক্যাচালঃ
কবি মলাগোফরুমার একটা ছড়া পড়েছিলাম অনেক আগে । উতসর্গ পত্রে ছিলো সাকার নাম । উতসর্গ পত্রে “সাকা” নামটা দেখে তখন বুঝি নাই । বেশ অবাক লেগেছিলো । কিন্তু পড়ার পর এই চারটি লাইন তখন বুয়েনো চকলেটের মত মনে অসাধারণ মনে হয়েছিলো । ছড়াটি এইরকম-
ছোট্ট বেলায় শুয়োর দেখে ,
হাতের মুঠো একে একে,
জড় হয়ে যেত ।
পোকার মত তোকে যদি,
পিষে ফেলা যেত !!
পাঁচটি বাক্যের এই কথাগুলো ঠিক নিজের মনের কথা বলে মনে হয় । প্রতিটি দিনেই স্বপ্ন দেখি, এই পশুটিকে যদি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যেতো ! যদি মানুষের সামনে তার বিষমুখ আর বিষ দাঁতগুলো ভেঙ্গে দেয়া যেতো ! আফসোস, এ সমাজ বড়ই অদ্ভুত সমাজ । এখানে মানুষ কে পিষে মারা হয়, পশুকে নয় ।
এক
সাকা নামের নরপিশাচটিকে নিয়ে কথা বলবার আসলে কোন রুচি অথবা ইচ্ছা কোনোটাই আমার ছিলো না । ধানমন্ডির ৮/এ এর ৪৮ নম্বর বাসার সামনে অথবা রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন এলাকার কাদের নগরের প্রধান ফটকের সামনে বড়জোর এক দলা থুথু দিয়েই আমি আমার ঘৃণা প্রকাশ করতে পারতাম । অনেকের অগোচরে এইসব ঘৃণা প্রকাশ করে বাসায় গিয়ে দু’দন্ড শান্তিতেও হয়তবা ঘুমানো যেত । ফেইস বুকে খোলা যেত “SAY NO TO SAKA” টাইপ কয়েকটা গ্রুপ কিংবা হাজার খানিক এড্রেসে মেইল করে কিছু খিস্তি-খেউর পৌছে দেয়া যেত সাকা কে উদ্দেশ্য করে । তাতেও চলত । কি লাভ হতো কিংবা কি হতো না তা হয়ত সেসব ক্ষেত্রে আর বিচার করতামও না । কিন্তু কেন যেন নিজেকে প্রবোধ দেবার মত কিছু একটার বড় প্রয়োজন পড়ল । মানুষ হয়ে জন্মাবার এই বুঝি ব্যার্থতা । নিজে যতটাই দূর্বল আর সংকুচিত হই না কেন, এই রকম একটা পুঁজ শরীরে দেখেও না দেখার ভান করতে পারি না । তাই সাকা সম্পর্কিত মোটামুটি সব তথ্যই আমাকে যোগাড় করতে হলো । এই পশুটির সম্পর্কেও জানতে হলো অনেক কিছু । গত এক সপ্তাহে এই পিশাচটিকে নিয়ে যতটুকু জেনেছি, তার কিছুটা বলতে পারলেও, পাঠক, আপনারা কষ্টে আর লজ্জায় মুখ লুকাবেন, দুঃখে চৌচির হবেন আর লজ্জায় আর গ্লানিতে বোধশুন্য হবেন । সাকার মত একটি পশু বাংলাদেশ নামের স্বাধীন আর সার্বভৌম রাষ্ট্রে কি করে থাকে এ এক অপার বিষ্ময় ! শুধু মাত্র এই একটি পশু এই দেশের নাগরিক, শুধু এই কারনটিতেই যদি বাংলাদেশকে কখনো “ব্যানানা রিপাব্লিক” কিংবা “ব্যার্থ রাষ্ট্র” ট্যাগে যদি ট্যাগায়িত হতে হয়, আমি অবাক হবো না । এই পশুটির অংভঙ্গি, উচ্চারণ, দাম্ভিক কটুক্তি, হায়েনার মত এক ধরনের বিরল প্রজাতীর হাসি,মুখ নিসৃত বর্জ্য , সবকিছুর মধ্যেই যেন একটি ভয়াবহ নোংরামির আভাষ থেকেই যায় । রাজনৈতিক নেতারা একজন আরেক জনের উপর সামান্য কথাতেও ঝাপিয়ে পড়েন । মওদুদ সাহেব তো কথায় কথায় আগে মান হানির মামলা করতেন, সেই মওদুদকে সুবিধাবাদী,চশমখোর বলেও সাকা মান হানির এলিগেশন থেকে রক্ষা পেয়ে যায়, শেখ হাসিনা কে যখন সাকা বলে, “ ওয়াজেদের কি সোনা নাই ? আমার সোনা নিয়ে টানাটানি কেন ?” কিংবা “ শেখ হাসিনার বাসর রাতের শাড়ি তো আমার কিনে দেয়া” অথবা, “ হাসিনা তো আমার উপর একটু দুর্বল, ওনার সাথে আমার বিয়ে হবার কথা ছিলো কি না…” সে সময় আওয়ামীলীগের চেলারা কই থাকে ? তারা তো “রাজাকারের ছেলের বিয়ে হয়েছে শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের সাথে” এই তথ্য শুনে আমার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে পোস্ট দেয়, ডিভাইন ইন্টারভেনশন আর জংলীদের জংলা নৃত্য দেখা যায় । কোন কোন শ্রদ্ধেয় বড় ভাই আমাকে আবেগের ব্যাবসায়ী বানান, প্রিয় মানুষগুলো বলেন , “নিঝুমের তো আপ্রোচ ঠিক নাই”, কেউ কেউ আবার “হারানো রাস্তা” হয়ে আমার কথার সত্যতা জানতে চান । কিন্তু কি এক অজানা ভয়ে সেইসব আওয়ামী প্রেমীরা সাকা’র ক্ষেত্রে নিরব আর ম্রিয়মান থাকেন । কই থাকে তাদের সব রেফারেন্সের ভান্ডার ? আওয়ামী নেতারাই বা কই থাকেন ? কেন সাকার বিচার হয় না ? কেন সাকার মত একটা নরকের কীট, একটা বিভতস পোকা, একটা হিংস্র পশুকে সব সরকার ছেড়ে দেয় ? খালেদার চেলারা কই থাকে, যখন খালেদাকে “কুকুর” বলে গালি দেয় ? তারেকের হম্বি তম্বি তখন কই থাকে ? মামুন আর তার পাওয়ার চোদায় না কেন ? খালেদার জাতীয়তাবাদী হ্যাডম তখন কার পুচ্ছদেশ দিয়ে কার রস আস্বাদন করে ?
অবশ্য এসব পাতি চেলা আর নেতাদের জিজ্ঞেশ করে কি হবে ? যখন মাননীয় শেখ হাসিনাকে আগের রাতে গালিগালাজ করে পরের দিন ছেলের বিয়ের দাওয়াত দিতে সুধা সদনে ঢোকার পার্মিশন পায়,যখন খালেদা কে কুকুর ডাকার জন্য বিরোধীদলীয় উপনেতা বানানো হয় । যখন এই হয় সাকার পুরষ্কার, তখন আমার মত আবাল পাবলিকের আর কি করণীয় থাকে ? আমরা কেবল দাঁতে দাঁত চেপে ভিতরেই গুমড়ে মরি, জ্বলতে থাকি । কারন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জন্য কোন আইন নেই । আদালত নেই । অন্ততঃ সব সরকার আমাদের এই হজমি বড়ি খাইয়ে, ভালো করে বুঝিয়েই দিয়েছেন ।
দুই
আমি যদি ১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল নতুন চন্দ্র সিংহ কে হত্যা করা দিয়ে শুরু করি, তাহলে হয়ত মনে হবে সাকার বর্নাঢ্যময় জীবন বুঝি ওই একাত্তরেই শুরু হলো । আপনাদের কাছে মনে হবে তার আগে এই পশুটি মানুষ ছিলো । এই রকম করে শুরু করা গেলে হয়ত আসলে ভালোই হতো । নিজেকে এতটা ক্লান্ত লাগতো না, যতটা ক্লান্ত হয়েছি গত একটি সপ্তাহে সাকার উপর তথ্য সংগ্রহ করে আর তার নির্মমতা আর পাশবিকতাগুলো জানতে পেরে । মানুষ হিসেবে এই বুঝি আমার দূর্বলতা । একটা মানুষ ঠিক কতটা পুঁতি গন্ধময় হলে তাকে অসভ্য বলা যায় কিংবা কতটা বিকট হলে তাকে পশু বলা যায় এই মাপকাঠির হিসেব আমার সাধারণ মজ্জায় ঢোকে না । আমি শুধু বুঝি সাকার কর্মকান্ডের এক লক্ষ ভাগের একটা ভাগ কেউ করে থাকলে , তাকে মানুষ সমাজেই রাখা সম্ভব না । অথচ সাকা পশুটি টিকে আছে বলীয়ান আর পরিপুষ্ট হয়ে তার আধিপত্য নিয়ে । যাকে বলে কি না বহাল তবিয়তে । কথিত আছে সাকার বাবা রাজাকার ফকার একাধিক রক্ষিতার কথা । রাঙ্গুনিয়ার সেই রক্ষিতা সুলতানার গর্ভে আসা সন্তান আমাদের আজকের সাকা । ফজলুল কাদের চোধুরী ওরফে ফকা, সেই সময়েই অবশ্য সুলতানাকে মাটিতে চাপা দিয়ে ফকা সেখানে টগর ফুল ফুটিয়েছেন বড় যত্নে । সাকার কথা শুরু করতে গেলে তার জন্ম, তার পারিপার্শ্বিক গুলো জানা খুব প্রয়োজন । কেননা তার এই নোংরামি আর পশুত্বের সূত্র গুলো জানা থাকলে সাকার পশুত্বের ব্যাপ্তিটা জানা অনেক সুবিধার হবে ।
(চলবে)